স্কুলজীবনে সঙ্গী ছিল আমার প্রাণের প্রিয়তমা সুমি। সুমি আর আমি, সারাক্ষণ দুজন মিলে একসঙ্গে কাটানো জীবনটা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। আজও তাকে একবিন্দু ভুলতে পারি না। তাকে ভোলার জন্য আমি কিনা করেছি। তবু ভুলতে পারলাম না। ভেবেছিলাম নিজের এই জীবন শেষ করে দেব। কিন্তু আমার চির দিনের জন্য আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মায়ের মুখখানা দেখেই শেষ করিনি নিজেকে। কারণ আমার মায়ের একমাত্র ছেলে ছিলাম আমি। তাই মা আমাকে না দেখলেই পাগল হয়ে যেতেন। আমি কোথাও গেলে মা সারাক্ষণ আমার আশায় পথ চেয়ে থাকতেন। আর আমি যতক্ষণ না আসতাম বাড়িতে, ততক্ষণ মা নিজের মুখে কিছুই দিতেন না। আমাকে দেখলেই আমার মায়ের মনটা একটু নরম হতো। আর আমি খাইয়ে দিতাম মাকে। নিজের কষ্ট এতদিন নিজের মধ্যেই চেপে রেখেছি। কখনও কাউকে বলিনি আমার সেই কষ্টের কথা। আজ আমি পরমার কাছে প্রকাশ করলাম, যে কি না বলার জন্য এত সুন্দর করে বিভাগ চালু করল, সেই www.jompesh.com ke ধন্যবাদ।
সুমির বাবা অনেক বড়লোক। তাদের কোনো অভাব ছিল না। সবসময় তাদের দাপট ছিল এলাকায়। এর মাঝেও সুমি আমার সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখত। আমিও স্বপ্ন দেখতাম সুমিকে নিয়ে সুন্দর একটা ঘর সাজাব, সেখানে থাকব সুমি আর আমি। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় আমরা দুজন একসঙ্গে বের হতাম। স্কুল ছুটি হলেও আসতাম একসঙ্গে। মাঝে মাঝে সে আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেত, বড় বোনের বাড়িতে যেত। সবসময় সে-ই বলত, যত বাধা আসুক না কেন তুমি শুধু আমার কাছে থেকো। তার কথাগুলো আজ সব মিথ্যা হয়ে গেল। হঠাত্ই একদিন সুমি আমাকে বলে, তুমি আমাকে ভুলে যাও। শুনে আমি থমকে দাঁড়াই। আমি বললাম, কেন? সে কোনো উত্তর দিল না; একা একা চলে গেল বাড়িতে। আমি শুনে সেখানে বসে ভাবতে থাকলাম। কেন সে আমাকে ভুলে যাবে, আমার অপরাধটা কী? শোনার মতো সে সময় দিল না আমাকে। আজও আমি কোনো মেয়েকে আর বিশ্বাস করি না। সুমি এখন অন্যজনের ভালোবাসার মানুষ। মাঝেমধ্যে সে বলে, আমার মতো ছেলেকে সে কখনও ভালোবাসেনি। কেন জানতে চাইলে সে চুপ হয়ে যেত। অথচ কেন এমন হলো। সুমি, তুমি তো এমন ছিলে না।
আমি তোমাকে কখনও ক্ষমা করতে পারব কিনা জানিনা। পৃথিবীতে অনেক ফুল ফুটে, মাঝেমধ্যে কিছু ফুল ঝরে যায়। মনে করব, আমি হয়তো ফুল হয়ে ঝরে গেলাম।
Comments