ঢাকা থেকে বিমানে চড়ার পর ভালো করে বসার ফুসরতও পাবেন না। মাত্র মিনিট চল্লিশের মধ্যেই ঘোষণা শুনবেন : কাঠমান্ডু চলে এসেছি। এরপরই নেমে পড়বেন কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে। না, কোনো পাহাড়ের চূড়া বা ঢালে এই বিমানবন্দর নয়। চারদিকে পাহাড়, তারই মাঝে এক উপত্যকায় রাজধানী কাঠমান্ডু। মূল শহরের একপাশে বিমানবন্দর। সেখান থেকে বেশিরভাগ পর্যটকের গন্তব্য শহরের কেন্দ্রস্থল থামেল। এখানেই রয়েছে সব রকমের অসংখ্য হোটেল। ভাড়াও আপনার সাধ্যের মধ্যে। কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি টাকায় ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকার হোটেল পাবেন। কোনো কোনো বড় হোটেলে ডিসকোবার আছে, আছে ক্যাসিনো। এ ছাড়াও ইদানীং কাঠমান্ডুতে আলাদাভাবেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ডিসকোবার।
কাঠমান্ডু শহর আর তার আশপাশে দেখার মতো জায়গা আছে অনেক। পুরনো এলাকা ললিতপুর ও ভক্তপুরে দেখবেন দরবার স্কয়ার। এ ছাড়া হিন্দু প্রধান নেপালে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাজধানী কাঠমান্ডুতেও আছে হাজারখানেকেরও বেশি হিন্দু মন্দির। এদের মধ্যে পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি ভিড় করেন শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বিমানবন্দরের কাছের পশুপতিনাথ মন্দিরে। এই মন্দির দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। আর শহরের প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে আছে বৌদ্ধদের সবচেয়ে বড় শম্ভুনাথ মন্দির। নেপাল গিয়ে এ দুটি মন্দির দেখে না এলে ভুল করবেন।
কিন্তু যে জন্য নেপাল যাওয়া সেই হিমালয় দেখা কি বাদ যাবে? নিশ্চয়ই না। এভারেস্টসহ হিমালয়ের আরও সব শৃঙ্গ দেখতে চলে যান নাগরকোট। কাঠমান্ডুর বাইরে নয়নাভিরাম পাহাড়ি রাস্তা পার হয়ে পৌঁছবেন নাগরকোটের বিভিন্ন পাহাড় চূড়ায়। এসবেরই কোনো একটায় উঠে দেখবেন মাউন্ট এভারেস্ট। গত কয়েক বছরে নাগরকোটের পাহাড় চূড়াগুলোতে গড়ে উঠেছে হোটেল-মোটেল-কটেজ। চাইলে সেখানে একটা রাতও কাটিয়ে আসতে পারেন। তবে হিমালয়ের শৃঙ্গগুলো দেখার জন্য নাগরকোটের চেয়েও ভালো পুরনো নগরী ধুলিখেল। এটি কাঠমান্ডু উপত্যকার বাইরে আরেক জেলা শহর।
তবে নেপালের পাহাড়ি শহরের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে আপনাকে পোখরা যেতেই হবে। কাঠমান্ডু থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে সড়কপথে ৬ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন অন্নপূর্ণা পর্বত রেঞ্জের উপত্যকা পোখরা। এখান থেকে অন্নপূর্ণাসহ বিভিন্ন পর্বতশৃঙ্গে ট্রেকিং শুরু করেন অনেক পর্বতারোহী। এ ছাড়াও এখানে আছে স্রোতস্বিনী নদীর ফেনিল-শুভ্র জলে রাফটিংয়ের অ্যাডভেঞ্চার। যারা আরও সাহসী তাদের জন্য আছে প্যারাগ্লাইডিংয়ের সুযোগ। পোখরার আশপাশে নদী ছাড়াও আছে লেক, ঝরনা, মন্দির।
পকেটে টাকার জোর থাকলে বিমান বা হেলিকপ্টারে চড়ে এভারেস্টসহ বিভিন্ন পর্বতশৃঙ্গের কাছাকাছি চলে যেতে পারেন। এক ঘণ্টার মাউন্টেন ফ্লাইটে অন্তত দশটি পর্বতশৃঙ্গের পাশ দিয়ে উড়ে আসবেন। আর হাতে অবারিত সময় থাকলে ঘুরে আসুন চিতোয়ান ন্যাশনাল পার্ক। হাতির পিঠে চড়ে পার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় চোখে পড়ে যেতে পারে বিরল প্রজাতির এক শিংওয়ালা গণ্ডার, চিতাবাঘ, এমনকি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এসব বন্যপ্রাণীর মাঝে কাটিয়ে আসতে পারেন একটি রাত।
কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানকার স্যুভেনির হিসেবে কিছু কেনাকাটা করা-ই স্বাভাবিক। নেপালে কেনাকাটার সময় দরদাম করতে ভুলবেন না। দোকানদাররা রুপিতে দাম চাইবে, সেটি নেপালি নাকি ভারতীয় রুপি তা জিজ্ঞেস করে নেবেন। তা না হলে দামদর করার পর এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারেন।
নেপাল যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সে দেশের ভিসা নিয়ে যেতে পারেন। আবার ত্রিভুবন বিমানবন্দরেও পোর্ট এন্ট্রি ভিসা পাবেন। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশিদের ভিসা ফি লাগে না।